Khabar Aajkal

নিত্যদিনই হানা হাতির। জঙ্গলে ফেরাতে রীতিমতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে বনকর্মীদের।।
Spread the love

নিত্যদিনই হানা হাতির। জঙ্গলে ফেরাতে রীতিমতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে বনকর্মীদের।।

ময়নাগুড়ি: জঙ্গল থেকে বেরিয়ে নিত্যদিনই বিশাল এলাকাজুড়ে গ্রামে ঢুকে পড়ছে হাতি। সন্ধ্যে থেকে ভোর অব্ধি হাতির অত্যাচারই সহ্য করতে হচ্ছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে ধান খেতের পর আলু খেতে হাতির হানা বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বন দপ্তর সহ কৃষকদের কাছে।।

গরুমারা জঙ্গল ঘেঁষা ময়নাগুড়ি ব্লকের শেষ সীমানা রামশাইতে শুরু হয়েছে হাতির আনাগোনা। এলাকার জঙ্গল ঘেঁষা বনবস্তি সহ বিস্তীর্ণ গ্রামগুলি যেমন রামশাই বাজার থেকে জলঢাকা নদী লাগোয়া বারোহাতি, কামারঘাট, নৌকাবিহার, কালিবাড়ি, সিদ্ধাবাড়ি সহ ক্যানেল লাগোয়া ক্ষেমনের হাট, উত্তর কালামাটি, চাকুলার হাট, ঝাড়মাটিয়ালি এলাকাগুলিতে সন্ধ্যের পরপরই চলে আসছে হাতি। সেই হাতিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে রীতিমতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে বনকর্মীদের। দিনরাত এক করে নজরদারি দিয়ে রয়েছেন তারা।।

গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের রামশাই মোবাইল স্কোয়াডের রেঞ্জার বিশ্বজ্যোতি দে জানান, প্রতিদিন একই সময়ে হাতি বের হওয়ার খবর আসতে শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন যাবত। বছরের অন্যান্য দিনগুলিতে হাতির আনাগোনা থাকলেও চলতি মরশুমে আলুর খেতে হাতির হানা অত্যন্ত ক্ষতিকর। কখনও একটি হাতি কখনও আবার সদলবলে হাতি চলে আসছে গ্রামের মাঝে। সন্ধ্যে থেকে ভোর অবধি প্রতিদিনই হাতির এই অত্যাচারে অত্যাচারিত হচ্ছেন গ্রামবাসী সহ বনকর্মীরা।।

সেখানকার রেঞ্জার জানান, অনেক ক্ষেত্রে একই সময় বিভিন্ন এলাকায় হাতি বের হওয়ার খবর আসায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বনকর্মীদের। অনেক সময় একটি এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে কিছুটা দেরি হয়ে গেলেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গ্রামবাসিদের। তবুও বনকর্মীরা কোনোদিক দিয়েই কোনও খামতি রাখছেন না। এলাকাবাসীদের তাঁরা সজাগ থাকতে বলছেন। যদিও বনবস্তি এলাকায় ধান কাটা হয়ে যাওয়ার কারনে সেই সকল এলাকায় হাতির দলের আগমন সেভাবে নেই। কিন্তু জলঢাকার চরের কয়েক কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকার মাঝে কয়েকশো বিঘা আলুর খেত থাকার জন্য ওই এলাকায় হাতির আগমন বেড়েছে। কিছুদিন ধরে ওই এলাকায় হাতি হানা দেওয়ার ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। তাই কামারঘাট ও বারোহাতি এলাকায় বনকর্মীদের চারটি দল গঠন করা হয়েছে বলে জানান রেঞ্জার। সেই প্রত্যেকটি দলে ১০ জন করে সদস্য তথা চাষিরা রয়েছেন। দলগুলিকে সার্চ লাইট ও পটাকা দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিন তাঁরা সন্ধ্যের পর নিজ নিজ এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন। স্কোয়াডের একটি মাত্র গাড়ি হওয়ার দরুণ অনেক সময় দূরত্বের জন্য সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয়রা যদিও বন দপ্তরের কাছে দাবি জানিয়েছেন যে যাতে নজরদারির জন্য আরও একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে বন দপ্তর। যদিও বিশ্বজ্যোতিবাবু জানান, গাড়ির বিষয়টি সম্পূর্ণ ওপর মহলের বিষয়। তারা সেই দাবি উপর মহলে জানিয়েছেন।


Spread the love
author

Related Articles